নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
'বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
মামলার বাদী এবং ভিকটিমের দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম দশম শ্রেণীর একজন ছাত্রী। চাচাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে আসামি মোঃ নুর আমিনের সাথে ভিকটিমের পরিচয় হয় এবং মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান হয়। মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে ভিকটিম এবং আসামির মধ্যে প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১১/০১/২০২৬ তারিখে আসামি নুর আমিন ভিকটিমকে তার পরিচিত গোলাম রাব্বানির ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যায় এবং বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরে আসামি নুর আমিন ভিকটিমকে বিয়ে করতে তালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে আসামি ভিকটিমকে বিবাহ করবে না বলে জানিয়ে দেয়। ফলে গত ২৫/০৩/২০২৬ তারিখ ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ( সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫) এর ৯খ ধারায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-২৯।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিএসসি, রংপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ২৮/০৪/২০২৬ রাত ১০.০০ ঘটিকার সময় রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানাধীন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর প্রধান গেইট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার ধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামি মোঃ নুর আমিন (২৭), পিতা- মোঃ ফজলুল হক, সাং- ছোট রসুলপুর, থানা- পীরগঞ্জ, জেলা-রংপুর’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যাসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।